1995 সালের 31 মার্চ ইঞ্জিনিয়ার নুরুল হক সিকদার চেয়ারম্যান, পলমল গ্রুপ মহোদয়ের একক অর্থায়নে, সৈয়দ আমির খশরু মহোদয়ের স্বপ্ন এবং এলাকাবাসীর সংগঠিত সামাজিক প্রচেষ্টায় সিরাজ সিকদার কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজটি দিঘর মহেশখালী মৌজায় (ডি.এম.খালী, ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর) খুলনা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সাথে 3.19 একর জমির উপর মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি শরীয়তপুর-2 (নড়িয়া-সখিপুর) সংসদীয় আসনের ভৌগোলিক এলাকার অর্ন্তগত।
17/03/1995 কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্যোগ হিসেবে একটি সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে ইঞ্জিনিয়র নুরুল হক সিকদার মহোদয়কে সভাপতি করে 51 সদস্য বিশিষ্ট একটি “সাংগঠনিক কমিটি” গঠন করা হয়। এই কমিটি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে জমি ক্রয়, অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থী ভর্তিসহ সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন। 31/03/1995 আনুষ্ঠানিক ভাবে কলেজ-এর ভিত্তিফলক যৌথভাবে উন্মোচন করেন-ইঞ্জিনিয়ার নুরুল হক সিকদার ও সৈয়দ আমির খসরু মহোদয়। প্রতিষ্ঠানের-“শিক্ষা-শ্রম-প্রগতি’র বিশ্বাস সংবলিত মনোগ্রাম ডিজাইন করেন প্রখ্যাত ভাস্কর অধ্যাপক শামীম সিকদার (প্রতিষ্ঠাতা মহোদয়ের বোন)। উল্লেখ্য যে, 22-03-1995 খ্রিঃ এর সাংগঠনিক কমিটির সভায় সৈয়দ আমির খসরুর পরামর্শে প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয় এবং প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় নামের অনুকূলে বিধি মোতাবেক নগদ অর্থ প্রদান করায় নামকরণ আনুষ্ঠানিক বৈধতা অর্জন করে। অতপর 2011 সালে গভর্ণিং বডির 95 তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের নামকরণের সাথে একাডেমিক স্তর “ডিগ্রি” শব্দটি যুক্ত করলে কলেজ-এর পূর্ণাঙ্গ নামকরণ হয়-“সিরাজ সিকদার ডিগ্রি কলেজ”।
1995-96 শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানে প্রথম একাদশ শ্রেণির (মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা) কার্যক্রম শুরু হয়। 01/10/1995 খ্রিঃ বিষয় ভিত্তিক প্রভাষকবৃন্দ স্ব-স্ব পদে যোগদান করেন। 07/10/1995 প্রতিষ্ঠানে প্রথম পাঠ দান শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটি 1995-96 শিক্ষাবর্ষ থেকে নিজ নামে পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি, 2001 সালে স্বীকৃতি লাভ করে। মে-2004 সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভূক্ত হয়। 2011-12 শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানে বি.এস.এস(পাস), 2014-15 শিক্ষাবর্ষ থেকে বি.এ ও বি.বি.এস(পাস) কোর্স চালু হয়। 2015-16 শিক্ষাবর্ষ থেকে বি.এস.এস(অনার্স) রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং 2017-18 শিক্ষাবর্ষ থেকে বি.বি.এ(অনার্স) ব্যবস্থাপনা কোর্স চালু হয়।
উল্লেখ্য যে, প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় ও তাঁর পরিবার এমপিও ভূক্তির পূর্বপর্যন্ত (2004) শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দের সমুদয় বেতন-ভাতা এবং 2009 সাল পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ বেতন-ভাতা প্রদান এবং 2009 সাল পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীকে বিনা বেতনে অধ্যায়নের সুযোগ এবং বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদান করে প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষাবিস্তারে অনন্য স্বাক্ষর রেখেছেন। অনস্বীকার্যভাবে যা ছিল প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকার ভিত্তি।
প্রতিষ্ঠানটি এখন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আস্থার নন্দিত ঠিকানা। আর প্রতিষ্ঠান এখন সেই আস্থা নির্মাণের পথেই এগিয়ে চলছে নিরন্তর।
(*উপস্থাপনা-পলাশ রাউত, সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান)